Saturday, 31 December 2011

২০১১ আর ঝরা পাতার গল্প


 একটা বছর শেষ হয়ে গেল দেখতে দেখতে।এই বছর আমাকে কিছু দিয়েছে আবার নিয়েছেও অনেক কিছু......।ইউনিভার্সিটি দিয়েছে, স্কুল নিয়েছে...।কিছু কাছের বন্ধু,রোজ যাদের মুখগুলো ভেসে উঠত,ঘুরে বেরাত,হাওয়ার মতই.....,হয়তো দেখা যেতো না সবসময়, কিন্তু ঘিরে থাকত.....পাল্টে গেলো।হ্যাঁ,পাল্টে গেলো.......হারিয়ে গেলো না....।তবু “রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে”।সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের বড় বড় ক্লাসরুমগুলো কেমন যেন হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্সির বাংলা-বিভাগের ছোটো ছোটো ক্লাসরুম.....বদলে গেলো।এখনও আঙ্গুলে আঙ্গুলে বিকেল নামে,এখনও খাতায় ঝুঁকে পড়া মুখ..তবু চশমার কাঁচ ঝাপসা।মনে পড়ে যায়,কতগুলো শুকনো পাতা,উড়ে গেছে এদিক ওদিক...যাদবপুর,আশুতোষ কিম্বা অন্যকোথাও-দেবদীপ্ত,ইন্দ্রনীল,শীল,কৌস্তভ...আরও অনেক।পায়ে পায়ে প্লাস্টিক বল,সম্বল তো বেশি ছিল না...।হ্যাঁ রে সায়ন,এখনও আঁকিস?মনে পড়েall India camel colour contest গুলো?best entry….হা হা হা হা...আমার আর ইচ্ছে করে না।
     এই বছরে হুসেন চলে গেলেন।জগজিৎ,ভীমসেন যোশী... “মৃত্যু,তুমি খাপ ছাড়া ইস্কুলের ছেলে/কেউ কাছে কেউ দূরে........”এই যাঃ।শাক্ত হয়ে পড়লাম।
     এদিকে ভারত বিশ্বকাপ জিতল, ওঃ।কি আনন্দ!পুলিৎজার এলো।আবার শুনছি নাকি আলোর থেকে ‘নিউট্রিনো’ বেশি জোরে ছোটে!ভাবা যায়?সবকটা physics বই নতুন করে লিখতে হবে।যাক গে, এসব দেবদীপ্ত ভাববে j.u.তে বসে।এখন শুধু আমি আর কবিতা।তার সাথে গল্প উপন্যাস।এই তো চেয়েছিলাম।ছন্দ,বৈষ্ণব পদাবলী...ছন্দ বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো।ক্লাসগুলো যা হতো না! ওঃ।...বেঞ্চি বাজছে।২৮(+১) টা গলা একসাথে।
     এভাবেই কিছু ভাল,কিছু মন্দ....কিছু পাওয়া,কিছু ছেড়ে চলে যাওয়া।কিম্বা বলা ভাল রেখে যাওয়া.......।২০১১ থেকে ২০১২।আবার নতুন করে...........!ক্যালেন্ডারে ২০১১ শেষ।কিন্তু সত্যিই কি কিছু শেষ হয়? কোনোকিছু? স্মৃতি....অন্তত প্রতারক নয়।“শেষ নাহি যে শেষ কথা কে কইবে?”

Thursday, 29 December 2011

চাঁদের পাহাড়

অনেকদিন পর আজ আবার “চাঁদের পাহাড়” পড়লাম।আমার ছোটবেলার সবচেয়ে প্রিয় উপন্যাস.......সময় ধুলো ফেলেছিল ভালোলাগার ওপর.....এক ফুঁতে অনেক ধুলো উড়ে গেল।অমিতর মুখে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “ভালো লাগার এভোল্যুশন আছে। পাঁচ বছর পূর্বেকার ভালো-লাগা পাঁচ বছর পরেও যদি একই জায়গায় খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে তা হলে বুঝতে হবে, বেচারা জানতে পারে নি যে সে মরে গেছে।”..পৃথিবীতে এমন কিছু জিনিস আছে যার কাছে গেলে পুরনো ভালোলাগা নতুন করে ফিরে আসে।এই ‘নতুন’ শুধু ‘পুরনো’ স্মৃতির গন্ধ নয়।এ এক নতুন অনুভূতি।যাই হোক,শিরায় শিরায় এড্রেনালিন ক্ষরণ কারী এমন উপন্যাস আমি অন্তত আর পড়ি নি।তোমরা কি বল?আবার কোনদিন এরকমই হঠাৎ করে ফিরে আসবো “ ওলডোনিও লেঙ্গাই”এর কাছে(পরে যার নাম হবে ‘মাউন্ট আলভারেজ)। সেদিনও আজকের মতোই বলবো “ সান্টা আনা গ্রাৎসিয়া ডা কর্ডোভা”..............................................সাহেবরা  বাঙালিকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়ার সাহস একবারের বেশী আর   পায়নি.....নইলে বিভূতিভূষণ আর রবীন্দ্রনাথ মিলেই ‘আলফ্রেড নোবেল’ এর সঞ্চয় শেষ করে দিতেন।

Thursday, 22 December 2011

বন্ধুরা


কলেজ থেকে ফিরতে ফিরতে
সুশান্তর সাথে হঠাৎ দেখা।

-“কেমন আছ?কি করছ?দাড়ি কাটো না কেন?”
-‘তুই আমাকে “তুই” বলতিস সুশান্ত!’
-“ও,তাই বুঝি!সে যাই হোক........”
গোধুলির নরম রোদ আমাদের
ফুটবল খেলার বিকেলগুলোর গা থেকে
পিছলে
      পড়ে 
           গেল............
ছুটে গেলাম পাড়ার পুরনো ঠেকে,
চেনা রোদেদের সাথে গল্প করব।
কিন্তু..........
রোদের পরে শেষ বিকেল বাড়ি ফিরলে
আমাদের বাড়ি ফেরার সময় হতো।
-তারপরের সেই ‘খেলা-ভাঙ্গা-একলা-মাঠ’
চুপটি করে গল্প করছে ফেলে আসা ছেলেবেলার সাথে।
বন্ধু কোথায়!
দৌড়ে গেলাম,ফেলে আসা স্কুলে,কোচিং গুলোয়-
তারপর রেখে আসা কোয়ার্ডে,ক্যান্টিনে
এদিক-ওদিক,কফি হাউস, এম.জি.রোড
আবার বইপাড়া,ট্রাম,বাস,অটো,মেট্রো
ছুটছি ছুটছি আর ছুটছি
ছুটতে ছুটতে কত রাস্তা,কত গলি,
মাথার ওপর মেঘ-সব ভেসে যাচ্ছে,
বন্ধু কোথায়?কোনপকেটে?ব্যাগের কোন
চেনের মধ্যে লুকোল,ধপ্পা দেবে বলে!
এই বেরো না,একটু বেরো!
আমি হুশ দেব না প্রমিস।
                      খেলা আব্বুলিস।
বড্ড হাঁপিয়ে গেছি রে,
আর পারছি না।
তোমরা কেউ দেখেছ আমার বন্ধুকে?
ও পাতা,ও কবিতার বই, শুনছো?
কেউ দেখোনি?কেউ না? কেউ ই না?
ক্লান্ত হয়ে,এসে বসলাম
আমার খাটটায়।
বন্ধুতা পরন্ত বিকেলের মতোই।
অনেক কিছু দেবে বলে 
নরম
       ওড়না 
    গুটিয়ে
নেয়।
সত্যিই কি?সত্যি সত্যি?
ভাগ্য দেখব বলে হাতের  পাতা মেলে দেখি-
ভাগ্য নয়,লেখা আছে-
বন্ধুদের ইতিহাসের নম্বর।।

Wednesday, 21 December 2011

একটা ব্লগ তৈরি করলাম.........নিজের কিছু কথা বলার জন্য...............