Monday, 27 February 2012


   জীবন যেদিন প্রথম হাঁটতে সুরু করে,মানুষ যে দিন থেকে চলতে সুরু করে, সেদিন থেকে সে একা। বড্ড একা। সেদিন থেকেই তার ধমনীতে রাত্রির মতো ক্লান্তি। বুকের মধ্যে উথাল সমুদ্র। শরীরের মধ্যে আদিম তৃষ্ণা। হাতের পাঁচ আঙ্গুলে আঁকড়ে ধরার অন্তহীন আকাঙ্খা। একটা  আশ্রয়ের অন্তহীন খোঁজও তো সেদিন থেকেই।একটা ঘর, অনেকটা পাখির নীড়ের মতো। কিন্তু একটা নাম তো দরকার। একটা শব্দ – যার মধ্যে খোঁজ আছে, শরীর আছে, আঁকড়ানোর ইচ্ছে আছে। আবার না পাওয়ার ব্যর্থতা ঢাকতে ছেড়ে দেওয়ার কপটতা আছে। যার মধ্যে কোলবালিশে মুখ চেপে সারারাত কান্না আছে। রাত ফুরিয়ে যাবার পর চোখ লাল সকাল আছে। তৈরি হল অভিধানের সবথেকে অপ্রয়োজনীয় অথচ অমোঘ, বিষ বল্লরীর মতো সুন্দর, মৃত্যুর চেয়েও শান্ত আবার জীবনের চেয়েও চঞ্চল শব্দের- জন্ম নিল “ভালবাসা”। জন্ম মাত্রই সে গান ধরল। কি গান? না দুখজাগানিয়া গান। যুগ থেকে যুগান্তরের পথ ধরে যে আর কোনদিনই সকল কাজের মাঝে কান্না ধারার দোলা থামতে দেবে না। মরুভুমির মরীচিকা আর মানুষের ভালবাসা অনন্তের দিকে, অসীমের দিকে শুকনো বুকে ছুটিয়ে মারে।একফোঁটাও জল দেয় না। কী মিথ্যে অথচ কী অমোঘ এই ছুটে চলা!
    এই ছুটে চলার ছবি, এই না পাওয়ার গল্প, এই হারানোর কবিতা, এই কান্নার গান একইভাবে বয়ে চলে। সব দেশে, সব সময়ে। চোখের জল তো সবসময়ই লোনা। কোন জলই থেমে থাকে না। গড়িয়ে পড়ে। জয়দেবের চোখ থেকে চণ্ডীদাসের রাধার গালে। সেই জলে বিশু পাগলের ছায়া, নন্দিনীর অপেক্ষা। সেই জল টলটল করে মালতিবালা বালিকা বিদ্যালয়ের সেলাই দিদিমণির চোখে। সেই জলে রাধার সঙ্গে মধ্যযুগে গা ভিজিয়েছিল পৃথিবীর অন্য খণ্ডের পরকীয়া নায়ক নায়িকারা-‘কোর্টলি লাভ’ এর সেই বর্ণাঢ্য কপোত কপোতী, আইরীশ উপাখ্যানের ত্রিস্তান, ইসল্ট । ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এসে ত্রিস্তান-ইসল্ট এর হাত ধরলেন জার্মানির গটফ্রীগ ভন স্তাসবুর্গ। পরে সেই ছড়িয়ে থাকা চোখের জল দিয়ে ফরাসি পণ্ডিত জোসেফ বেদিয়ে গাঁথলেন মুক্তমালা। ইংরাজিতে ভাষান্তর করলেন হিলেয়ার বেলক। পৃথিবীর যেখানেই মানুষ ভালবেসে কাঁদুক না কেন, বাঙালি তার সাথে না কেঁদে পারে? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাই “সোনালি দুঃখ” দিলেন। তিনিই তো বাস স্টপে নীরাকে তিন মিনিট দেখে আমাদের স্বপ্নে কাঁটার মতো বিধিয়ে দেন। সেই জায়গাটা দিয়ে আজও রক্ত পড়ে। চুইয়ে চুইয়ে।
  এভাবেই চাকা গড়িয়ে চলে।  গড়াতে গড়াতে গড়াতে গড়াতে গড়াতে গড়াতে কোন এক একলা বৃষ্টি রাতে নেমে আসে কথার কথায় কথা দেওয়া কথা গুলো। ধুতি পাঞ্জাবী পড়া এক অধ্যাপক কবি বলে ওঠেন, “যেন এই পৃথিবীতে কেউ কোনদিন, প্রেম বলে কোন ঋণ রাখেনি কোথাও”। ঋণ হয়তো ছিল, থাকে, থেকে যায়। কিন্তু শোধ! হয়ে ওঠে না। হয়ে ওঠে নি। কোনদিনও কি হবে? “প্রশ্ন গুলো সহজ, আর উত্তর তো জানা”।
      শ্রাবণ,আমরা তাহলে কোন পথে যাব? ভালবাসা না ভাল থাকা ? “প্রশ্ন গুলো সহজ, আর উত্তর তো জানা”। 

Tuesday, 21 February 2012


আর কিছু বলবে না? আরও কিছু?
কেঁদে ওঠে বৃষ্টি শেষে,গহীন মন ফ্ল্যাটবাড়িতে
বিষণ্ণ ক্যাকটাস। 

Thursday, 16 February 2012

কবিকে যেদিন দেখি


জয় গোস্বামীর সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিনের।
ট্রেনের বাইরের অন্ধকারে, সারি সারি নিয়ন আলোদের দেখে
যখন নিজেকে খুব একা লাগত, তখন থেকে।
পরিচয় ছিল শব্দ আর গল্প মালায়।
মালতিবালা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে কত দুপুর কেটেছে।
বেনিমাধবকে পেলে ভীষণ পেটাতাম আর উদোম খিস্তি,
এই ফাঁকে চুপি চুপি, সেলাই দিদিমণিকে বড্ড ভালবাসি।
দিদিমণিতো বেনিমাধবকে......। আমাকে চোখেই পরেনি...
ফিরে গেছি ‘ স্নান থেকে, প্রেম থেকে, সৌন্দর্য থেকে’...
লোকটা অনেকদিন আমার সাথে অনেক অনেক গল্প করেছে-
সেগুলো সব পাতার গায়ে, সেগুলো সব কুয়াশা হয়ে
প্রথম রোদের হাত ধরে ঘাসের ওপর পড়ে থাকত।
বেলা হলেই ফুড়ুৎ চড়াই, আমি তখন ইশকুলে যাই।
ভাবিনি তখনও কাঁচা পাকা গোঁফ, বড় বড় দাঁড়ি পাঞ্জাবি...।
ছবিতে তো অনেকবার... একদমই চেনা যায়নি
কবিতারা পাঞ্জাবি গায়, শব্দদের দাড়ি আছে,
ভাবতে খুব অবাক হতাম, রূপকথারা কথাও বলে।
শরীর তুমি খুব অচেনা, তোমায় আমি চিনি না,
চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সে আমার কেউই না।
আমার জয় শব্দে থাকে, কবিতার বইয়ের পাতায়,
আমার মনকেমন করা, মেঘবালিকার রূপকথায়।
সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে, লাজুক লাজুক মুখচোরা,
সে সব্বার বড় কবি, সে আমার কবি ই না।