Thursday, 22 March 2012

মন্দছেলের উপাখ্যান -Dairy of a bad boy....


  “মন্দছেলে কারে কয়?” খুব সোজা উত্তর স্যার। “যাহাদের পশ্চাৎদেশ অল্প বয়সেই পক্ক, যাহারা এদিক ওদিক থেকে ম্যানেজ করা পয়সা সিগারেটের ধোঁয়া করিয়া এবং  সময়কে পেটকাটি ঘুড়ি করিয়া নীল আশমানে উড়াইয়া দেয়,এবং যাহাদের মুখে বারোমাস খিস্তি খেউরের পৌষ মাস তাহাদের সামাজিক অর্থে মন্দ ছেলে বলে”।  তবে যে যাই বলুক,মন্দছেলেদের জীবনটা বেশ প্যস্টেল রঙের বাস্কের মতন। ভালছেলেদের জীবনগুলো যেন বাদল সরকারের নাটক “এবং ইন্দ্রজিৎ”। সেই ১,২,৩,৪,৩,২,১। মন্দ ছেলেরা কেমন যেন সুতো ছেঁড়া চাঁদিয়াল। বেশ উড়ে চলে, প্রেম ছাড়া বগগা খায় না, মাটিতে ছায়া পড়ে না।
    আসলে এদের নিয়মের সুতোটাই গেছে ছিঁড়ে। অনিয়মের তো কোন দায় নেই। কাউকে কোন কৈফিয়ত দেওয়ার নেই। তাই উড়ে চলায়ও কোন বাধা নেই।
    উড়তে উড়তে কি কখনো ক্লান্ত লাগে না? কখনো কি মনে হয় না, একটু জিরিয়ে নিই। হয়, হয়তো একটু বেশীই হয়। কিন্তু উপায় থাকে না আসলে। সুতো ছিঁড়ে গেছে, লাটাইয়ের কাছে ফিরবে কেমন করে?
    তাই তো সে উড়ে চলে, ভেসে চলে। হাওয়ার গন্ধ বুকে নিয়ে। চোখে থাকে দূর দিগন্তের নেশা। যেখানে সে কখনই পৌছতে পারবে না। তা না পারুক। তাতেও তার খুব একটা কিছু এসে যায় না।
       সে আসলে পালাতে চায়। চারপাশের ভাল, ভীষণ ভাল সবকিছুর থেকে। ঠিক যেমন বেসুরো ছেলে গানের আসরে মুখ লুকোয়, অন্তাক্ষরিতে শুধু কথাগুলো বলে পাশ কাটায়। মন্দছেলেরা পৃথিবীর ভীষণ কঠিন ক্লাসগুলোকে বুঝতে না পেরে ক্লাস পালায়। নিজের সমস্ত না পারাগুলোকে কাগজের বল বানিয়ে দুমড়ে মুচড়ে চেনা পাড়ার ডাস্টবীনে ফেলে দৌড় লাগায় অন্য পাড়ায়। কিন্তু পালাবে কোথায়? নিজের মতো দেখতে একটা ছেলে রোজ এসে বলে তুই খারাপ। ভীষণ খারাপ।
      তবু ঘুড়ি উড়তে থাকে। কেন জান? একটা অ্যান্টেনার খোঁজে। যার খাঁজে হঠাৎ একদিন ছেঁড়া ঘুড়ি ঝুলে পড়বে।